পাতা

উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে


তোমার ক্লাস শুরুর বেশ কিছুদিন হয়ে গেছে। এর মধ্যে একদিন ধুপ করে তোমার স্যার তোমাকে একটা অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে বসল। তোমাকে চায়নিজ ভাষার সবগুলো অক্ষর লিখে নিয়ে আসতে পারবে। তুমি মনে মনে ভাবলে এ আর এমন কী! কিন্তু, বাসায় গিয়ে গুগল করতেই তোমার চক্ষু চড়ক গাছ! একেক গবেষকের তথ্য অনুযায়ী চায়নিজ ভাষার অক্ষরের সংখ্যা একেক। সবচেয়ে ছোট লিস্টিতেই আছে প্রায় ২,৬০০ অক্ষর। তুমি একবার মাথা চুলকে চিন্তা করলে, বাংলা ভাষার ৫০টা বর্ণই তোমার ঠিকমত মনে আছে কি’না। কিন্তু, অ্যাসাইমেন্ট তো করতেই হবে। কী করা যায়?
এখানে তুমি দু’টো কাজ করতে পারো। যদি তুমি খুব ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট হও, তাহলে বসে বসে সেই ২,৬০০ অক্ষর পড়তে বসে যাবে (এর মধ্যে তুমি আরও জানতে পারবে, কোন কোন গবেষকের মতে চায়নিজ ভাষার অক্ষরের সংখ্যা লক্ষাধিক) । আর যদি তুমি ফাঁকিবাজ কেউ হও, তাহলে তোমার কোন চায়নিজ বন্ধুকে ধরিয়ে দেবে কাজটা করার জন্য। তুমি জেনে খুশি হবে, পৃথিবীর প্রায় সব প্রোগ্রামারও তোমার মতই ফাঁকিবাজ। তাই তারা একজনের কাজ আরেকজনের ঘাঁড়ে চাপানোর বেশ ভাল একটা পদ্ধতি বের করে রেখেছে। জিনিসটাকে বলে ফাংশন 
মনে কর, তুমি তোমার কোন চায়নিজ বন্ধুকে বলে রাখলে, তাকে তোমার হয়ে চায়নিজ ভাষার অক্ষরগুলো লিখে দিতে হবে। যখন তুমি তাকে কল করবে, তখন সে যেন অ্যাসাইমেন্টটা লিখে ফেলে। এমন বুঝ দিয়ে রাখার পর, যখনই তুমি তোমার বন্ধুকে কল করবে, তখনই সে তোমার কাজ করে দেবে।

সহজ গণিত শিক্ষা

ক্লাসের সবার সাথে তো পরিচিত হওয়া হল। এবার খানিকটা পড়াশোনা শুরু করা যাক।

কম্পিউটার শব্দের অর্থ যে গণনাকারী যন্ত্র, এটা তো আমরা সবাই জানি। কিন্তু, বিষয়টা আসলেই আমাদের অনেকের কাছেই অদ্ভুত লাগে। আমরা চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছি, কম্পিউটারে গান শোনা যায়, ছবি আঁকা যায়, মুভি দেখা যায়, গেম খেলা যায় আরও কত কী! তাহলে এটা গণনাকারী যন্ত্র হয় কী করে! উত্তরটা খানিকটা অবিশ্বাস্য শোনাতে পারে কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে, কম্পিউটার আসলে কেবল যোগ এবং কয়েক ধরণের যুক্তি ছাড়া সেভাবে কিছুই বোঝে না। কম্পিউটার জিনিসটা এত অবুঝ হওয়ার পরেও তাকে দিয়ে এত দারুণ দারুণ কাজ করিয়ে নেয়াটাই হচ্ছে একজন প্রোগ্রামারের দক্ষতা। আমরা তাহলে সেই কম্পিউটারের একেবারে গোড়ার দিকের জিনিস নিয়েই শুরু করি – গণনা অর্থাৎ অংক করা।