একটা আরবী প্রবাদ আছে, বিদ্যাশিক্ষার জন্য সুদূর চীনদেশে যাও। ধরা যাক, তুমি বিদ্যাশিক্ষার জন্য খুব আগ্রহী হয়ে এই প্রবাদটা মেনে চীনদেশে চলে গেলে পড়াশোনা করতে। সেখানে গিয়ে একটা স্কুলে ভর্তি হলে। কিন্তু, গোল বাঁধলো কথা বলা নিয়ে। তুমি কথা বলো খাস বাংলায় – আইছি, খাইছি, গেছি। আর তোমার ক্লাসের সবাই কথা বলে খাস চাইনিজে – ওয়াং চুং ফুচুং ফাং।
তুমি তো পড়লে মহা ফ্যাসাদে! কারও সাথে কথাই বলতে পারছো না। তুমি তোমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করছো, লাইব্রেরিটা কোথায়। সে তোমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। কী করা যায়? তুমি তখন দুটো কাজ করতে পারো। একটা হচ্ছে তুমি চাইনিজ ভাষাটা শিখে ফেলতে পারো। কিন্তু, সেটা অনেক ঝামেলার কাজ। চাইনিজ ভাষায় হাজার হাজার অক্ষর। লক্ষ লক্ষ শব্দ। সে ভাষায় কথা বলার মত কঠিন কাজ বুঝি দুনিয়াতে দ্বিতীয়টা নেই! সুতরাং, সেটা বাদ। অন্য যে কাজটা তুমি করতে পারো সেটা হচ্ছে, একটা দোভাষীর সাহায্য নিতে পারো। যে বাংলাও জানে আবার চাইনিজও জানে। তুমি তাকে বাংলায় একটা কাজের কথা বলবে আর সে সেটাকে চাইনিজে অনুবাদ করে তোমার বন্ধুকে জানিয়ে দেবে।
আমাদের কম্পিউটার নামের যন্ত্রটাও তোমার ওই চাইনিজ বন্ধুর মতই। সে দুনিয়াতে একটা ভাষাই বোঝে। সেই ভাষার নাম মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ। সেই ভাষায় 0 আর 1 ছাড়া আর কোন অক্ষর নেই। মাত্র দু’টো অক্ষর দিয়ে কথা বলার মত ঝামেলার কাজ বুঝি পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই। চাইনিজ ভাষার হাজার হাজার অক্ষরের চেয়েও বুঝি কষ্টের কাজ সেটা। তাই কম্পিউটারের সাথে কথাবার্তা বলার জন্য মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার প্ল্যান বাদ। অন্য যে কাজ আমরা করতে পারি সেটা হচ্ছে, একটা দোভাষীর সাহায্য নেয়া। যে তোমার ভাষাও জানে, আবার কম্পিউটারের ভাষাও জানে। এই দোভাষীকে বলে কম্পাইলার। এই মহাশয় তোমার থেকে কোন নির্দেশ নিয়ে সেটা মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে অনুবাদ করে কম্পিউটারকে জানিয়ে দেয়। কম্পিউটার সেই মত কাজ করে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের মন মতো বিভিন্ন কম্পাইলার তৈরি করেছে। যেমন, Turbo C, Borland C, Microsoft C ইত্যাদি। আমরা যে কম্পাইলারের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করবো, তার নাম Code Blocks. নামটা একটু “ঘাউড়া টাইপের” হলেও ইনি মানুষ অত্যান্ত ভাল। তার সাহায্য নিয়েই আমরা সিস্কুলে আমাদের পাঠ্যক্রম শুরু করব।
তো ক্লাস শুরু করার আগে কোডব্লকসকে তোমার অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দাও। সেটার জন্য তোমাকে যা করতে হবে সেটা হচ্ছে, এই ঠিকানায় গিয়ে কোড ব্লকস ডাউনলোড করতে হবে। উইন্ডোজের জন্য সবার নিচে প্রায় ১০০ মেগাবাইটের যে ফাইলটা আছে, সেটা ডাউনলোড করতে হবে। সুন্দর করে আদরের সাথে তাকে ডাউনলোড করে কম্পিউটারে ইন্সটল করতে হবে। ইন্সটল করা শেষ হলে কোড ব্লকস ওপেন করো। তারপর কিবোর্ডে Ctrl + Shift + n (তিন বাটন একসাথে) চাপো। দেখো, কী সুন্দর সাদা একটা ক্যানভাস দেখা যাচ্ছে। তুমি চাইলে এখনই এখানে লেখালেখি শুরু করে দিতে পারো। কিন্তু, তার আগে আরেকটু কাজ করে নিলে ভাল হয়। File মেনুতে গিয়ে Save সিলেক্ট করো অথবা Ctrl + s চাপো। তারপর তুমি তোমার প্রোগ্রামিং ফাইল যেখানে রাখতে চাও সেখানে তোমার মনের মাধুরি মিশিয়ে একটা নাম দিয়ে সেইভ করো। ব্যাস! তুমি ক্লাস করার জন্য তৈরি।
আর তোমার যদি নিজের কম্পিউটার নাও থাকে, তাতেও সমস্যা নেই। একটা অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন থাকলেই চলবে। সেক্ষেত্রে Play Store থেকে C4droid নামের ছোট্ট একটা অ্যাপ নামিয়ে নাও। অ্যাপটি পাবে এই ঠিকানায়। সেটা ইন্সটল করে ওপেন করো। দেখো, এখানেও একটা সাদা রংয়ের পেইজ দেখা যাচ্ছে।
এই সাদা ক্যানভাসই আমরা আমাদের সিস্কুলের ক্লাস রুম।
It's so easy to understand.😀🥀
ReplyDelete